Best Seller

দুর্ঘটনায় কবি

Availability: In stock

৳ 300.00 ৳ 240.00

আমেরিকান ইগল থেকে লেভিস্ত্রসের বোর্ডরুমে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করা, বাংলাদেশের গারমেন্টস শিল্পের একজন শীর্ষ নির্বাহী বাংলাটেক্স গ্রুপের মার্চেন্ডাইজিং ডাইরেক্টর সারোয়ারকে বারবার ফিরে ডাকে তার পূর্ব পরিচয়। তার মননে এখনো সে চাঁদপুর ডিগ্রি কলেজের ফুটবল টিমের গোলকিপার মাত্র— যার বেড়ে ওঠা মিঠাপুকুর গ্রামে এবং মফস্বলের সরলতায়— দশটা গোল বাঁচিয়ে একটা গোল খেলে সে হেরে যাবে।

তার শ্রেণিসংকোচ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে, আর্থিক ভাবে পতনের দিকে ধাবিত, অটল অহমিকা সম্পন্ন চাঁদপুরের জমিদার পরিবারের মেয়ে সাহিদার সাথে বিয়ে। ক্রমেই সাহিদা  আবিষ্কার করে, প্রেম নয়, করুণার আলোড়ন নয়, সারোয়ারের সাথে সম্পর্ক শুধু নির্ভরতার আর শরীরসর্বস্বতার। সারোয়ার ও বুঝতে ব্যর্থ হয়, এই সাবেক সামন্ত কন্যার মন।

অফিস এবং পরিবার উভয় ক্ষেত্রেই চরম চাপের মুখে থাকা সারোয়ার এক অভূতপূর্ব বিপদের সম্মুখীন হয়— গাড়ি চালানোর সময়ে একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের তিনজন সদস্যকে মারাত্মকভাবে আহত করে।

আহতদের বাঁচানোর জন্য গাড়ি থেকে নামলেও পাবলিকের হাতে মার খাওয়ার ভয়ে দুর্ঘটনার স্থান থেকে পালিয়ে যায় সারোয়ার। তারপর বিবেকের তাড়নায় নিজের পরিচয় লুকিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে আরও কঠিন বিপদে জড়িয়ে পড়ে এবং চরম নির্যাতনের মুখোমুখি হয়। সারোয়ারের ভেতরে জন্ম নেয় দ্বিধা। সে পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করে, মার্চেন্ডাইজিং ডিরেক্টর সারোয়ারের লেবাসটাই পাল্টেছে কিন্ত সে এখনো রয়ে গেছে, চাঁদপুর ডিগ্রী কলেজের ফুটবল টিমের গোলকিপার।

সবার শেষে নিম্নবিত্ত থেকে এলিট হওয়া সারোয়ার কীভাবে, তার মধ্যবিত্ত পলায়নপরতা থেকে মুক্তি পেতে ব্যর্থ হয় সেই গল্প, এই দুর্ঘটনায় কবি।

‘দুর্ঘটনায় কবি’ সমসাময়িক বাংলাদেশের কর্মজীবী মধ্যবিত্ত একজন মানুষের লড়াইয়ের গল্প। একজন মিডিওকারের সুপিরিয়রে উত্তরণের গল্প। তার পতন ও চলমান সিস্টেমের অংশ হয়ে গিয়ে মানবিক সত্তা হারানোর বিনিময়ে পুনরুত্থানের গল্প।

কীভাবে আমাদের সমাজ টাকার কাছে বারবার পরাজিত হয়, কীভাবে পুরাতন এলিটদের থেকে নব্য এলিটদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়, কিভাবে আমাদের ইনসিকিউরিটিগুলোর কারণে নব্যমধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তের মধ্যে একটা আপসকামী মানসিকতা তৈরি হয় এবং কিভাবে এই রাষ্ট্রের নিষ্ঠুর যন্ত্রগুলো নিম্নবিত্তের সাথে মধ্যবিত্তের বিভাজন করে তার নির্যাতনের মাত্রা ঠিক করে সেই বর্ণবাদী সিস্টেমের কথা এসেছে এই উপন্যাসে।

বাংলাদেশের গারমেন্টস শিল্পের নির্বাহীদের তীব্র প্রতিযোগিতাময় কর্মজীবনের টানাপোড়েন-কেন্দ্রিক এই উপন্যাসে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জীবনে যে ভাঙাগড়া চলে তার বিবরণ আছে। আছে নিজের পরিবার, সমাজ সবকিছু বর্জন করে ক্যারিয়ারের মাঝে বন্দি হয়ে যাওয়া কিছু মানুষের চিত্র। আছে ভালোবাসা, প্রতারণা আর পুলিশের নির্যাতনের কথা।

একজন সমালোচক মন্তব্য করেছেন— এই বইটি সাম্প্রতিক সময়ের নবীন ঔপন্যাসিকদের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে হুমায়ূন আহমেদের প্রভাবমুক্ত প্রথম উপন্যাস। মন্তব্যটি প্রশংসা নাকি সমালোচনা তা পাঠকই যাচাই করে নেবেন।

Quantity :

জিয়া হাসান তার জিয়া হাসান পরিচিতি পেয়েছেন ব্লগে এবং ফেসবুকে  রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণের কারণে। কিন্তু এই পরিচয়ের ফুটো পয়সা মূল্য না থাকাতে, তাকে সন্তানের লেঙ্গুট, স্কুলের খরচ এবং রুটি রুজির দায় মেটাতে হয় শ্রম বেচে। এই শ্রম কখনো তিনি বেচেছেন সরকারি চাকরিতে, কখনো বেচেছেন মাল্টিন্যাশনাল ব্যাংকে, কখনো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বা কখনো পোশাক শিল্পে। নিজের গোল্লামারা ব্যবসায় যে শ্রম বিকিয়েছেন, তা উল্লেখ না করাই বাঞ্ছনীয়।

কিন্তু গতর খেটে মনের শান্তি মেটে না বলেই, জিয়া হাসান কলম পেতে নিজের অবসর নষ্ট করেন। একজন পাঁচ বছর বয়সী তুরন্দাজ ও পাঁচ মাস বয়সী শান্ত পুত্র এবং একজন অসাধারণ ধৈর্যশীল, মিতব্যয়ী স্ত্রীর পতি জিয়া হাসানের রাজনৈতিক পরিচয় একজন ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিস্ট।

বাংলাদেশের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক মেরুকরণের মাঝে কোনোমতে  লুঙ্গির কাছা সামলে একটি নির্দলীয় পরিচয় ধরে রাখার ভ্রান্ত চেষ্টা করে পরিচিত জনের কাছে তিনি হাস্যরসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। জিয়া হাসান একজন ব্যর্থ সঙ্গীত শিল্পীও বটে। অজস্র গান লিখে এবং সুর করে শ্রোতাপ্রিয়তা পেতে ব্যর্থ হয়ে,  সঙ্গীত সমালোচক সেজে, ব্যর্থ শিল্পীরা সমালোচক হয়— এই প্রবাদের  সার্থকতা এনেছেন তিনি।

ইতোপূর্বে তিনি একটা বই লিখেছেন, যার নাম ‘শাহবাগ থেকে হেফাজত: রাজসাক্ষীর জবানবন্দি’। এই বইয়ের কারণে, শাহবাগ এলাকায় দেখলে মাইর এবং চাপাতি পার্টির নেকনজরের সম্ভাবনার জটিল সংমিশ্রণের কারণে, জিয়া হাসান নিজেকে নির্বিরোধী দেখাতে এই বইয়ের অবতারণা করেছেন, হয়তোবা। কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই এই উপন্যাস জিয়া হাসানের প্রথম এবং শেষ উপন্যাস। এবং খুব সম্ভবত বাংলাদেশের সম্ভাবনাহীন প্রকাশনা শিল্পে, এই উপন্যাস প্রথম এবং শেষ সংস্করণ। তাই,  পড়তে ইচ্ছে না হলেও, পাঠক বইটি এন্টিক বা শোপিস হিসেবে কিনে নিতে পারেন। জিয়া হাসানের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা: www.facebook.com/zia.hassan.rupu

আমেরিকান ইগল থেকে লেভিস্ত্রসের বোর্ডরুমে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করা, বাংলাদেশের গারমেন্টস শিল্পের একজন শীর্ষ নির্বাহী বাংলাটেক্স গ্রুপের মার্চেন্ডাইজিং ডাইরেক্টর সারোয়ারকে বারবার ফিরে ডাকে তার পূর্ব পরিচয়। তার মননে এখনো সে চাঁদপুর ডিগ্রি কলেজের ফুটবল টিমের গোলকিপার মাত্র— যার বেড়ে ওঠা মিঠাপুকুর গ্রামে এবং মফস্বলের সরলতায়— দশটা গোল বাঁচিয়ে একটা গোল খেলে সে হেরে যাবে।

তার শ্রেণিসংকোচ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে, আর্থিক ভাবে পতনের দিকে ধাবিত, অটল অহমিকা সম্পন্ন চাঁদপুরের জমিদার পরিবারের মেয়ে সাহিদার সাথে বিয়ে। ক্রমেই সাহিদা  আবিষ্কার করে, প্রেম নয়, করুণার আলোড়ন নয়, সারোয়ারের সাথে সম্পর্ক শুধু নির্ভরতার আর শরীরসর্বস্বতার। সারোয়ার ও বুঝতে ব্যর্থ হয়, এই সাবেক সামন্ত কন্যার মন।

অফিস এবং পরিবার উভয় ক্ষেত্রেই চরম চাপের মুখে থাকা সারোয়ার এক অভূতপূর্ব বিপদের সম্মুখীন হয়— গাড়ি চালানোর সময়ে একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের তিনজন সদস্যকে মারাত্মকভাবে আহত করে।

আহতদের বাঁচানোর জন্য গাড়ি থেকে নামলেও পাবলিকের হাতে মার খাওয়ার ভয়ে দুর্ঘটনার স্থান থেকে পালিয়ে যায় সারোয়ার। তারপর বিবেকের তাড়নায় নিজের পরিচয় লুকিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে আরও কঠিন বিপদে জড়িয়ে পড়ে এবং চরম নির্যাতনের মুখোমুখি হয়। সারোয়ারের ভেতরে জন্ম নেয় দ্বিধা। সে পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করে, মার্চেন্ডাইজিং ডিরেক্টর সারোয়ারের লেবাসটাই পাল্টেছে কিন্ত সে এখনো রয়ে গেছে, চাঁদপুর ডিগ্রী কলেজের ফুটবল টিমের গোলকিপার।

সবার শেষে নিম্নবিত্ত থেকে এলিট হওয়া সারোয়ার কীভাবে, তার মধ্যবিত্ত পলায়নপরতা থেকে মুক্তি পেতে ব্যর্থ হয় সেই গল্প, এই দুর্ঘটনায় কবি।

‘দুর্ঘটনায় কবি’ সমসাময়িক বাংলাদেশের কর্মজীবী মধ্যবিত্ত একজন মানুষের লড়াইয়ের গল্প। একজন মিডিওকারের সুপিরিয়রে উত্তরণের গল্প। তার পতন ও চলমান সিস্টেমের অংশ হয়ে গিয়ে মানবিক সত্তা হারানোর বিনিময়ে পুনরুত্থানের গল্প।

কীভাবে আমাদের সমাজ টাকার কাছে বারবার পরাজিত হয়, কীভাবে পুরাতন এলিটদের থেকে নব্য এলিটদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়, কিভাবে আমাদের ইনসিকিউরিটিগুলোর কারণে নব্যমধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তের মধ্যে একটা আপসকামী মানসিকতা তৈরি হয় এবং কিভাবে এই রাষ্ট্রের নিষ্ঠুর যন্ত্রগুলো নিম্নবিত্তের সাথে মধ্যবিত্তের বিভাজন করে তার নির্যাতনের মাত্রা ঠিক করে সেই বর্ণবাদী সিস্টেমের কথা এসেছে এই উপন্যাসে।

বাংলাদেশের গারমেন্টস শিল্পের নির্বাহীদের তীব্র প্রতিযোগিতাময় কর্মজীবনের টানাপোড়েন-কেন্দ্রিক এই উপন্যাসে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জীবনে যে ভাঙাগড়া চলে তার বিবরণ আছে। আছে নিজের পরিবার, সমাজ সবকিছু বর্জন করে ক্যারিয়ারের মাঝে বন্দি হয়ে যাওয়া কিছু মানুষের চিত্র। আছে ভালোবাসা, প্রতারণা আর পুলিশের নির্যাতনের কথা।

একজন সমালোচক মন্তব্য করেছেন— এই বইটি সাম্প্রতিক সময়ের নবীন ঔপন্যাসিকদের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে হুমায়ূন আহমেদের প্রভাবমুক্ত প্রথম উপন্যাস। মন্তব্যটি প্রশংসা নাকি সমালোচনা তা পাঠকই যাচাই করে নেবেন।

ISBN-13:

978-984-92066-9-9

Publisher:

Adarsha

Pages:

160

Publication Year:

2016

Dimensions:

8.5×5.5×0.6 inch

Language:

Bengali

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “দুর্ঘটনায় কবি”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading...